Showing posts with label অন্য ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label অন্য ধর্ম. Show all posts

Tuesday, July 2, 2024

পবিত্র বাইবেলে কি "মক্কা" নাম উল্লেখিত রয়েছে?

পবিত্র বাইবেলে কি "মক্কা" নাম উল্লেখিত রয়েছে?

 



লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

অভিযোগঃ বাইবেলে মক্কা নগরীকে “বাক্যা” নামে উল্লেখিত রয়েছে “Who passing through the valley of Baca make it a well; the rain also filleth the pools.”- Psalm 84:6;

জবাবঃ পবিত্র বাইবেলের গীতসংহিতা ৮৪ অধ্যায় ৬ পদে “মক্কা” নামক নগরির বিষয়ে কিছুই বলা হয় নি এই দাবিটি সম্পূর্ন বানোয়াট।

প্রথমত, আমরা যদি প্রশঙ্গ (Context) পড়ি তখন আমরা দেখতে পাই উক্ত অধ্যায়ে “মক্কা” নামক নগরীর বিষয়ে কিছুই বলা হয় নি,

“হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তোমার আবাস কেমন প্রিয়!  আমার প্রাণ সদাপ্রভুর প্রাঙ্গণের জন্য আকাঙ্ক্ষা করে, এমন কি, মূর্চ্ছিত হয়, আমার হৃদয় ও আমার মাংস জীবন্ত ঈশ্বরের উদ্দেশে উচ্চধ্বনি করে। সত্য, চটকপক্ষী এক কুলায়  পাইয়াছে, খঞ্জনপক্ষী নিজ শাবক রাখিবার এক বাসা পাইয়াছে; তোমার বেদিই সেই স্থান, হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, আমার রাজন্‌, আমার ঈশ্বর। ধন্য তাহারা, যাহারা তোমার গৃহে বাস করে, তাহারা সতত তোমার প্রশংসা করিবে। [সেলা] ধন্য সেই ব্যক্তি, যাহার বল তোমাতে, [সিয়োনগামী] রাজপথ যাহার হৃদয়ে রহিয়াছে।তাহারা ক্রন্দনের তলভূমি দিয়া গমন করিয়া তাহা উৎসে পরিণত করে;প্রথম বৃষ্টি তাহা বিবিধ মঙ্গলে ভূষিত করে। তাহারা উত্তর উত্তর বলবান হইয়া অগ্রসর হয়,প্রত্যেকে সিয়োনে ঈশ্বরের কাছে দেখা দেয়।” -গীতসংহিতা৮৪:১-৭; (কেরী)

পবিত্র বাইবেলে ইয়াওয়ের (সদাপ্রভুর) গৃহ বলতে জেরুশালেম উপাসনালয়কে বোঝায় (গীতসংহিতা২৩:৬,২৭:৪,৬৫:৪;) মক্কাকে বোঝায় না, তাঁর আবাস ভূমি বলতে সিয়োনকে বোঝায় (গীতসংহিতা৪৩:৩;) মক্কাকে বোঝায় না।

দ্বিতীয়ত, আমরা যদি এর শব্দার্থ দেখি তবে মোটেই “মক্কা” নগরীর বিবরণ পাই না,

Who passing through the valley of Baca make it a well; the rain also filleth the pools.- King James Bible (Psalm 84:6)

হিব্রু বাক্যা ( בָּכָא) শব্দের অর্থ হলোঃ "weeping"/a valley in Palestine[1] যা মোটেই “মক্কা” নয় কারন মক্কা শব্দের অর্থ the holy city of Islam in Saudi Arabia, a place to which many people are attracted[2]

"weeping"/a valley in Palestine” আর the holy city of Islam in Saudi Arabia, a place to which many people are attracted” কিভাবে এক জায়গা হতে পারে? শব্দার্থ অনুসারেও এই দুটি স্থান মেলে না।

তৃতীয়ত, পবিত্র বাইবেলে অন্য স্থানেও বাক্যা ( בָּכָא)/ "weeping"/a valley in Palestine” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যা মুসলিম দাঈদের (প্রচারকদের) মিথ্যাচার চুরমার করে দেয়,

সেই সকল বাকা বৃক্ষের (הַבְּכָאִ֖ים (hab·bə·ḵā·’îm)) শিখরে সৈন্যগমনের মত শব্দ শুনিলে তুমি উদ্যোগ করিবে; কেননা তখনই সদাপ্রভু পলেষ্টীয়দের সৈন্যকে আঘাত করিবার জন্য তোমার সম্মুখে অগ্রসর হইয়াছেন। 

-২শমূয়েল৫:২৪;

King James Bible
And let it be, when thou hearest the sound of a going in the tops of the mulberry trees(הַבְּכָאִ֖ים
 (hab·bə·ḵā·’îm)), that then thou shalt bestir thyself: for then shall the LORD go out before thee, to smite the host of the Philistines.

এখান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় পবিত্র বাইবেলে মোটেই মক্কা নগরীর বিষয়ে কিছু বলা হয় নি এটা সম্পূর্ন মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু না।

ইসলাম এই বিষয়ে কি বলে?

ইসলামে মক্কা নগরীর অবস্থান এবং কাবা ঘরের অবস্থান নিয়ে বৈপরীত্য রয়েছে। হযরত মুহাম্মদের জন্মের পূর্বেই আল মক্কা নগরী ছিল কিন্তু তা আরবের মক্কা নয় বরং সাবেঈণ সম্প্রদায়ের মন্দির যা ইয়েমেনে অবস্থিত এবং আরবে এবং তার আসেপাশে অনেক কাবা ঘর ছিল যা মূলত মূর্তিপূকজদের সাবেঈন সম্প্রদায়ের উপাসনায় ছিল।

Almaqah or Almuqh (Sabaean Arabicالمقه) was the Moon god of the ancient Yemeni kingdom of Saba'. He was also worshipped in Dʿmt and Aksum in Ethiopia and Eritrea.[3]

১। কাবা ঘর ইব্রাহীমের তৈরী করা নির্ধারিত স্থানে পুরা নির্মান করা হয় নি,

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء) - 60/ Prophets  ৩৩৬৮ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [আয়িশা (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি কি জান তোমার কাউম যখন কাবা ঘর নির্মাণ করেছে, তখন তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তি হতে তা ছোট করেছে? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তা ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার কাওম কুফরী হতে অল্পকাল আগে আগত না হতো। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশাহ (রাঃ) এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীমে কাবার সংলগ্ন দুটি কোণকে চুমু দেয়া একমাত্র এ কারণে পরিহার করেছেন যে, কাবার ঘর ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুরাপুরি নির্মাণ করা হয়নি। রাবী ইসমাঈল (রহ.) বলেন, ইবনু আবূ বকর হলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর। (১২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৬)[4]

২। হযরত মুহাম্মদের জন্মের পূর্বেও কাবা ছিল যা ইয়েমের আল মক্কা শহরে অবস্থিত ছিল, কিন্তু হযরত মুহাম্মদ তার অনুসারি পাঠীয়ে তা ধ্বংস করেছিলেন,

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى) - 64/ Military Expeditions led by the Prophet (pbuh) (Al-Maghaazi)

৪৩৫৫ জারীর (ইবনু আবদুল্লাহ্ বাজালী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে একটি ঘর ছিল যাকে যুল খালাসা’, ইয়ামানী কাবা এবং সিরীয় কাবা৭৯ বলা হত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসা থেকে আমাকে স্বস্তি দেবে না? এ কথা শুনে আমি একশপঞ্চাশ জন অশ্বারোহী নিয়ে ছুটে চললাম। আর এ ঘরটি ভেঙ্গে টুকরা করে দিলাম এবং সেখানে যাদেরকে পেলাম তাদের হত্যা করে ফেললাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে এ সংবাদ জানালাম। তিনি আমাদের জন্য এবং (আমাদের গোত্র) আহমাসের জন্য দুআ করলেন। [৩০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৩)[5]

তাই আমরা দেখতে পাই ইসলামে মক্কা নগরীর অবস্থান এবং কাবা ঘরের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে তাই পবিত্র বাইবেলের উপরে প্রশ্ন করার আগে তাদের নিজেদের ধর্ম নিয়ে চর্চা করা উচিত।

Sunday, June 23, 2024

আল্লাহ যখন ফিতনাবাজ!

আল্লাহ যখন ফিতনাবাজ!

 


ফিতনা শব্দের অর্থ (বা fitnah, ফিতান ; আরবি: فتنة, فتن‎‎ fitan : "প্রলোভন, বিচার; রাষ্ট্রদ্রোহ, গৃহযুদ্ধ, সংঘাত") একটি আরবি শব্দ যার বিস্তৃত অর্থ বিচার, কষ্ট বা কষ্ট।
মুসলিমরা প্রায় অন্য ধর্মের শিক্ষা গুলোকে ফিতনা বলে দাবি করে তারা ফিতনা থেকে বাচার জন্য দোয়া পর্যন্ত করে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিতানি, মা জহারা মিনহা ওয়া মা বাতানা।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে পরিত্রাণ চাই।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৭৭৮)

কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো কুরআনের মধ্যে আল্লাহকেও ফিতনাবাজ বলা হয়েছে সূরা ২৫ আল ফুরকান আয়াতঃ২০;
আর তোমার পূর্বে যত নবী আমি পাঠিয়েছি, তারা সবাই আহার করত এবং হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ (فِتۡنَۃً) করেছি। তোমরা কি ধৈর্যধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা।
এখানে আরবী শব্দ “ফিত’নাতান”(فِتۡنَۃً) ব্যবহৃত যার সবথেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ হলোঃ “প্রলোভন” এছাড়া অন্যান্য আয়াতেও আল্লাহকে ফিতনাবাজ বলা হয়েছে,
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা (فِتۡنَۃً ؕ) করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। -সূরা২১ আয়াত৩৫;
এটা এজন্য যে, শয়তান যা নিক্ষেপ করে, তা যাতে তিনি তাদের জন্য পরীক্ষার (فِتۡنَۃً) বস্ত্ত বানিয়ে দেন, যাদের অন্তরসমূহে ব্যাধি রয়েছে এবং যাদের হৃদয়সমূহ পাষাণ। আর নিশ্চয় যালিমরা দুস্তর মতভেদে লিপ্ত রয়েছে।-সূরা২২ আয়াত৫৩
আর তোমার পূর্বে যত নবী আমি পাঠিয়েছি, তারা সবাই আহার করত এবং হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্যধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা।-সূরা২৫ আয়াত২০
নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা(فِتۡنَۃً)।-সূরা ৩৭ আয়াত ৬৩
নিশ্চয় আমি তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ(فِتۡنَۃً) উষ্ট্রী পাঠাচ্ছি। অতএব তুমি তাদের ব্যাপারে অপেক্ষা কর এবং ধৈর্যধারণ কর।-সূরা ৫৪ আয়াত২৭
উক্ত আয়াত গুলো পড়লে প্রমান পাওয়া যায় কুরআনের ঈশ্বর নিজেই ফিতনাবাজ। কুরআনে আরো অনেক আয়াতে “ফিতনা” শব্দটি এসেছেঃ
আর তোমরা ভয় কর ফিতনাকে* যা তোমাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে শুধু যালিমদের উপরই আপতিত হবে না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।– সূরা৮ আয়াত২৫
তখন তারা বলল, ‘আমরা আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে যালিম কওমের ফিতনার পাত্র বানাবেন না’।– সূরা১০ আয়াত৮৫
হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের (فِتۡنَۃً) পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।-সূরা৬০ আয়াত ৫;
কুরআন থেকে প্রমানিত আল্লাহ সয়ং ফিতনাবাজ।

Sunday, June 16, 2024

কুরআন কি “আল্লাহর পুত্র থাকার” বিষয়টিকে অস্বীকার করে?

কুরআন কি “আল্লাহর পুত্র থাকার” বিষয়টিকে অস্বীকার করে?

 



লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

কুরআনে প্রায় দাবি করা হয়েছে আল্লাহর কোন পুত্র নেই যেহতু তার কোন স্ত্রী নেই

‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন সংগিনী গ্রহণ করেননি এবং না কোন সন্তান’।” ৭২: আল-বায়ান

আর তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান; বরং আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই । সব তাঁরই অনুগত।  :১১৬ আল-বায়ান

কিন্তু সেই কুরআনের মধ্যেই ঈসা মসীহকে আল্লাহর পুত্র বলা হয়েছে,

সূরা ৪:১৭১;

হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, 'তিন'। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে যমীনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আল-বায়ান

হে আহলে কিতাব! তোমরা স্বীয় ধর্মে সীমা অতিক্রম করনা এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ব্যতীত বলনা; নিশ্চয়ই মারইয়াম নন্দন ঈসা মাসীহ্ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর বাণী - যা তিনি মারইয়ামের প্রতি সঞ্চারিত করেছিলেন এবং তাঁর আদিষ্ট আত্মা; অতএব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। আর ‘‘আল্লাহ তিন জনের একজন’’- এ কথা বলা পরিহার কর। তোমাদের কল্যাণ হবে; নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র ইলাহ; তিনি কোন সন্তান হওয়া হতে পুতঃ, মুক্ত। নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা আছে তা তাঁরই এবং আল্লাহই কার্য সম্পাদনে যথেষ্ট। মুজিবুর রহমান

১।এই আয়াতে বলা হয়েছে “  কুরআনের ঈসা মসীহ একজন মানুষ” এর পাশাপাশি তিনি “আল্লাহর কালিমা এবং আল্লাহর রূহ” (ঐশ্বরিক।/Divine) খ্রীষ্টানরা এটাই বিশ্বাস করে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট যখন মানব রূপে এসেছিলেন তখন তিনি ১০০% মানুষ এবং ১০০% ঐশ্বরিক/Divine ছিলেন।

২। এই আয়াতে লেখা হয়েছে“তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে।/তিনি কোন সন্তান হওয়া হতে পুতঃ, মুক্ত।” কিন্তু আমরা যদি আরবীতে দেখি এমন কথা সেখানে লেখাই নাই তার জন্য আমরা কুরআনের Word by Word অনুবাদ গুলো দেখবোঃ

 Literal

You The Book`s people, do not exaggerate/exceed the limit in your religion, and do not say on (about) God except the truth , but the Messiah, Jesus, Mary`s son (is) God`s messenger and His word/expression He threw it away to Mary, and a Soul/Spirit (could be Gabriel) from Him; so believe with God, and His messengers, and do not say: "Three." Stop (it is) best for you, but God (is) one God, His praise/glory that to be for him a child; for Him what (is) in the skies/space and what (is) in the earth/Planet Earth, enough/sufficient with God (as a) guardian/protector .[1]

 

এখানে বলা হয়েছেHis praise/glory that to be for him a child;/তার প্রশংসা/গৌরব যে তার জন্য একটি সন্তান আছে”
 

Word for Word

O People (of) the Book! (Do) not commit excess in your religion and (do) not say about Allah except the truth. Only the Messiah, Isa, son (of) Maryam, (was) a Messenger (of) Allah and His word which He conveyed to Maryam and a spirit from Him. So believe in Allah and His Messengers. And (do) not say, "Three;" desist (it is) better for you. Only Allah (is) God One. Glory be to Him! That He (should) have for Him a son. To Him (belongs) whatever (is) in the heavens and whatever (is) in the earth. And sufficient (is) Allah (as) a Disposer of affairs.[2]

“Glory be to Him! That He (should) have for Him a son.”  এই দ্বিতীয় অনুবাদে একটু অনুবাদক অর্থের পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন তিনি ব্রেকেটে (should) কথাটি  লিখেছেন। যখন ব্রেকেটে কিছু লেখা হয় তা অনুবাদকের নিজের মতামত  হয় সেটা মূল TEXT এ থাকে না তাই (should) কথাটি  বাদ দিলে পাওয়া যায় Glory be to Him! That He  have for Him a son.”/ তাঁর মহিমা! যে তাঁর জন্য তাঁর একটি পুত্র রয়েছে।” 

এই আয়াতে কুরআনের ঈসা মসীহ এবং আল্লাহকে নিয়েই কথা হচ্ছে তো এটা স্পষ্ট যে কুরআন স্বীকার করে যে ঈসা মসীহ ইবনুল্লাহ(আল্লাহর পুত্র) অধিকাংশ কুরআনের অনুবাদকেরা এই অনুবাদটিকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে মিথ্যা অনুবাদ করে।

 

কুরআনের লেখক কি  খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদের ধারনা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন?

কুরআনের লেখক কি খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদের ধারনা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন?

 



লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

কুরআনে যেভাবে ত্রিত্ববাদের ধারনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা দেখে একজন খ্রীষ্টানের মনে ধারনা আসতে পারে  “কুরআন যিনি লিখেছিলেন তিনি কি আদৌ ত্রিত্ববাদ বুঝতেন?”  আর এই ধরনের চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় তার উল্লেখযোগ্য কারন পেশ করছি।

১। কুরআন অনুসারে পিতা ঈশ্বর ত্রিত্বের তৃতীয় ব্যক্তিঃ সূরা ৫:৭৩;

অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তিন জনের তৃতীয়জন’। যদিও এক ইলাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর যদি তারা যা বলছে, তা থেকে বিরত না হয়, তবে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে। আল-বায়ান

 hey have certainly disbelieved who say, "Allah is the third of three." And there is no god except one God. And if they do not desist from what they are saying, there will surely afflict the disbelievers among them a painful punishment. -Sahih International


Surely, disbelievers are those who said: “Allah is the third of the three (in a Trinity).” But there is no ilah (god) (none who has the right to be worshipped) but One Ilah (God -Allah). And if they cease not from what they say, verily, a painful torment will befall the disbelievers among them.- Muhsin Khan

They surely disbelieve who say: Lo! Allah is the third of three; when there is no Allah save the One Allah. If they desist not from so saying a painful doom will fall on those of them who disbelieve.- Pickthall

Indeed they have already disbelieved, the ones who have said, “Surely Allah is the third of three.” And in no way is there any god except One God. And in case they do not refrain from what they say, indeed there will definitely touch the ones of them that have disbelieved a painful torment.- Dr. Ghali

পৃথিবীর কোন খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নেই যারা পিতা ঈশ্বরকে ত্রিত্ববাদের তৃতীয় জন বলে মনে করে। পিতা ঈশ্বর ত্রিত্ববাদের সর্ব প্রথমে অবস্থান করেন তৃতীয়তে নয়। কিন্তু কুরআনের বেনামী লেখক ত্রিত্ববাদের ধারনাটি বুঝতেই পারেন নি, যার কারনে খ্রীষ্টানের বিশ্বাস নিয়ে ভুল তথ্য পেশ করেছেন।

২। কুরআনের লেখক মরিয়মকে ত্রিত্ববাদের অংশ মনে করতেনঃ

আল-মায়েদা | Al-Ma'ida | سورة المائدة - আয়াতঃ ৭৩ এর তাফসীর করতে গিয়ে কুরআনের তাফসীরকারীরা এই ভুল তুলে ধরেছেন,

১) অর্থাৎ ঈসা মসীহ আলাইহিস সালাম, রূহুল কুদ্‌স ও আল্লাহ, কিংবা মসীহ, মারইয়াম ও আল্লাহ -সবাই আল্লাহ। তাদের মধ্যে একজন অংশীদার হলেন আল্লাহ। এরপর তারা তিনজনই এক এবং একজনই তিন। এ হচ্ছে নাসারাদের সাধারণ বিশ্বাস। নাসারাদের মালেকিয়া, ইয়াকুবিয়্যা ও নাসতুরিয়্যা এ তিনটি দলই উপরোক্ত বিশ্বাস পোষণ করে। [ইবন কাসীর] এ যুক্তিবিরোধী ধর্মবিশ্বাসকে তারা জটিল ও দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় ব্যক্ত করে। অতঃপর বিষয়টি যখন কারো বোধগম্য হয় না, তখন একে ‘বুদ্ধি বহির্ভূত সত্য বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষান্ত হয়। সুদ্দি বলেন, এখানে তিনের এক ইলাহ বলা হয়েছে। তিনজন বলতে, ঈসা, তার মা মারইয়াম এবং আল্লাহকে বোঝানো হয়েছে। কারণ, অন্য আয়াতে কোন কোন নাসারাদের দ্বারা ঈসা ও তার মাকে ইলাহ হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করে তা খণ্ডন করা হয়েছে। [আল-মায়েদাহ: ১১৬] ইবন কাসীর বলেন, এ মতটি অধিক প্রাধান্যপ্রাপ্ত। [ইবন কাসীর]-তাফসীরে জাকারিয়া[1]

এখানে স্পষ্ট দেখা যায় কুরআনের বেনামী লেখক মরিয়মকে ত্রিত্ববাদের অংশ হিসাবে মনে করতেন তিনজন বলতে, ঈসা, তার মা মারইয়াম এবং আল্লাহকে বোঝানো হয়েছে।

৩। সূরা ৫ আয়াত১৬৬  স্পষ্ট বলা হয়েছে খ্রীষ্টনরা মরিয়মকে ত্রিত্বের অংশ বলে মনে করে,

আর যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলেঃ তোমরা আল্লাহর সাথে আমার ও আমার মায়েরও ইবাদাত কর? ঈসা নিবেদন করবেঃ আপনি পবিত্র! আমার পক্ষে কোনক্রমেই শোভনীয় ছিলনা যে, আমি এমন কথা বলি যা বলার আমার কোন অধিকার নেই; যদি আমি বলে থাকি তাহলে অবশ্যই আপনার জানা থাকবে; আপনিতো আমার অন্তরে যা আছে তাও জানেন, পক্ষান্তরে আপনার জ্ঞানে যা কিছু রয়েছে আমি তা জানিনা; সমস্ত গাইবের বিষয় আপনিই জ্ঞাত।- মুজিবুর রহমান

And [beware the Day] when Allah will say, "O Jesus, Son of Mary, did you say to the people, 'Take me and my mother as deities besides Allah?'" He will say, "Exalted are You! It was not for me to say that to which I have no right. If I had said it, You would have known it. You know what is within myself, and I do not know what is within Yourself. Indeed, it is You who is Knower of the unseen. Sahih International

বর্তমান তথাকথিত মুসলিম দাঈ যারা আছেন তারা দাবি করে বলেন “না না এখানে ত্রিত্ববাদের অংশ হিসাবে মরিয়মকে নাম উল্লেখ করা হয় নি।” তারা এও দাবি করেন “কাথলিকরা মরিয়মের উপাসনা করে তাই এই আয়াতে ঠিকি লেখা আছে।”

হাস্যকর বিষয় হলো তারা প্রথমেই দাবি করে এই আয়াতে ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কিছু  বলা হয় নি কিন্তু তার পরের যুক্তিতেই কাথলিকদের দিলীল পেশ করে। তাদের এটা জানে রাখা উচিত কথালিকরা মরিয়মের উপাসনা করলেও তারা তাকে ত্রিত্বের ঈশ্বর হিসাবে মনে করে না।

ভুলঃ “এই আয়াতে ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কিছু  বলা হয় নি” তাফসীরকারীদের দলীল প্রমানিত করে এই আয়াতে স্পষ্ট ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কথা বলা হয়েছে

[1] এ হল খ্রিষ্টানদের দ্বিতীয় ফির্কা, যারা তিন ঈশ্বরের দাবীদার ছিল। যেটাকে তারা (One God in Three Person) বলে। আর এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে যদিও খোদ তাদের মধ্যেই মতবিরোধ বিদ্যমান, তবুও সঠিক কথা এই যে, তারা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মা মারয়্যাম (‘আলাইহাস্ সালাম)-কেও আল্লাহর সাথে (সমকক্ষ ভেবে) মাবূদ বা উপাস্যরূপে গণ্য করতো; যেরূপ কুরআন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন ঈসা (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, {أأنتَ قُلتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِن دُونِ اللّه} অর্থাৎ, তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার আম্মাকে মা’বূদ (উপাস্য) বানিয়ে নাও? (সূরা মাইদাহ ১১৬) এখান থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খ্রিষ্টানরা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মাতা মারয়্যাম (‘আলাইহিস্ সালাম)-কে উপাস্য হিসাবে গণ্য করে। আর আল্লাহ তৃতীয় উপাস্য বা মা’বুদ। যাকে তারা ‘তিনের তৃতীয়’ বলে আখ্যায়ন করে। তাদের প্রথম বিশ্বাসের মতই আল্লাহ এ বিশ্বাসকেও কুফরী বলে মন্তব্য করেছেন। -তাফসীরে আহসানুল বায়ান[2]

এথেকে বোঝায় যায় কুরআনের লেখক সে মনে করত খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদ বলতে তারা বিশ্বাস করে “পুত্র(যীশু খ্রীষ্ট), মাতা এবং পিতা(আল্লাহ)”। সেই জন্য কুরআনের বেনামী লেখক দাবি করেছেন “আল্লাহর কিভাবে পুত্র হতে পারে তার কোন স্ত্রী নাই”

‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন সংগিনী গ্রহণ করেননি এবং না কোন সন্তান’।” ৭২: আল-বায়ান

আর তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান; বরং আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই । সব তাঁরই অনুগত।  :১১৬ আল-বায়ান

মুসলিমরা দাবি করে, “কুরআন আল্লাহর কিতাব” একজন খ্রীষ্টানের অবশ্যই মনে হতে পারে, “এটা কিভাবে সম্ভব!  সৃষ্টিকর্তা  ত্রিত্ববাদের ধারনা জানেন না? যেহেতু কুরআনে ত্রিত্ববাদ নিয়ে ভূল ব্যাখ্যা করা হয়েছে?